নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

ওজনপার্ক সাবওয়েতে ছিনতাই ঘটনা ঘটে। ডানে ছিনতাইকালীর হামলায় আহত মনির
তিন বাংলাদেশি হামলার শিকার ॥ কয়েকটি গ্রোসারিতে ডাকাতি

ঠিকানা রিপোর্ট : করোনাকালে নিউইয়র্কের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জজ ফ্লয়েড নিহত হবার পর নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে ব্যাপকহারে আইন পরিবর্তন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো- বেল রিফর্ম এবং পুলিশ রিফর্ম আইন। এই দুটি আইনই নিউইয়র্কে পাশ করা হয়। বেল রিফর্ম অনুযায়ী এখন পুলিশ যেকোন অপরাধীকে ধরলে তাকে থানায় নিয়ে কোর্টের তারিখ দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি অবৈধ অস্ত্র নিয়েও ধরা পড়ে বা অতীতে তার অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাহলেও তাকে ছেড়ে দিতে হবে। আগে পুলিশ যে কাউকে গ্রেফতার করলে তার অতীতের রেকর্ড দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো। যেমন- অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়লে গ্রেফতারের সাথে সাথেই তাকে জেলে পাঠানো হতো বা অতীত অপরাধের রেকর্ড থাকলেও তাকে জেলে পাঠানো হতো। এখন যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, গ্রেফতারের পর পুলিশকে তাকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। যে কারণে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন এবং একের পর এক অপরাধ করছেন। অন্যদিকে পুলিশ রিফর্মের কারণে পুলিশও আগের মত পুলিশী কৌশলে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারছেন না। নতুন আইনের ফলে পুলিশ হাঁটু অপরাধীর গায়ে বা মাথায় ঠেকিয়ে গ্রেফতার করতে পারছে না। আগে দেখা যেত পুলিশ যে কোন কৌশলে অপরাধীকে গ্রেফতার করছে। এখন তারা সেই কৌশলে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারছেন না। কারণ তারা যেভাবে অপরাধীকে গ্রেফতার করছেন, তা প্রচার করার অধিকার দেয়া হচ্ছে। আগে পুলিশের কিছু গোপনীয় বিষয় ছিলো, এখন তাও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্ক সিটির বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নতুন আইনে পুলিশের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
তারা বলেন, আসামি বা অপরাধীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে যেতে হয়েছে। শত শত পুলিশ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
তারা আরো বলেন, নতুন দুই আইনে পুলিশকে হাত-পা বেঁধে পানিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যে কারণে পুলিশও তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করছেন।
অন্য আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, অপরাধীকে ধরতে গিয়ে যখন পুলিশ নিজেই অপরাধী হয়ে যাচ্ছে, তখন পুলিশও নিজেদের নিরাপদ রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, তারা তাই করছেন।
যে কারণে নিউইয়র্কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা ব্রঙ্কস, জ্যামাইকা, ওজনপার্ক, ব্রুকলিনের ফুলটন এলাকা, ফ্লাশিংসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা এবং ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গিয়েছে।
বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণ শুধু পুলিশ রিফর্ম নয়, করোনাভাইরাসের কারণে অভাবেও এ সব ঘটনা ঘটেছে। করোনায় অনেক মানুষের চাকরি নেই, অনেকেই অভাবের মধ্যে রয়েছে। যে কারণে মানুষ ডাকাত এবং ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন। আবার অনেক এলাকায় দুর্বৃত্তরা বাসায় বাসায় গিয়েও ডাকাতি এবং হামলার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির বাড়িতেও ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, সময়টা আসলে খারাপ, যে কারণে সবাইকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে। আগের মত গভীর রাত পর্যন্ত সব এলাকায় দোকান বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। আবার যে কেউ বাড়ির দরজায় বেল দিলেই আগন্তুক সম্পর্কে নিশ্চিৎ না হয়ে সাথে সাথে দরজা খোলা উচিৎ হবে না।
নিউইয়র্কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শিকার হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। গত ১০দিনে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি হামলার শিকার হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি গ্রোসারিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে হামলার শিকার হয়েছেন মনির আহমেদ (৩৪), গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুইন্সে হামলার শিকার হয়েছেন আক্তারুজ্জামান (৪৫) এবং গত ৬ অক্টোবর সকালে ওজনপার্কে হামলার শিকার হয়েছেন নাজিম উদ্দিন ও তার মেয়ে। এ ছাড়াও জ্যামাইকায় বেশ কয়েকটি গ্রোসারি এবং ডেইলিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির সময় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *