কোভিড পরীক্ষার সনদবিহীন ২০০ যাত্রী নিয়ে অবতরণ করলো মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স। গুণলো জরিমানা।

গতকাল বৃহষ্পতিবার মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ২০০ যাত্রী নিয়ে মালে থেকে ঢাকা এসে পৌছে। যাত্রীদের কারো সাথেই কোভিড সনাক্তকরণের জন্য নির্ধারিত পিসিআর পরীক্ষার সনদ নেই। এ ফ্লাইটটি মালদ্বীপে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার জন্য পরিচালিত হয়েছে৷ তাই বলে কোভিড পরীক্ষার সনদ ছাড়াই যাত্রীদের ঢাকায় নিয়ে আসতে পারবে এরকম কোন উদার শর্ত তাদের জন্য ছিল না৷ অবশ্য মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তুলনামূলকভাবে উদার শর্তই দিয়েছিল। পিসিআর পরীক্ষাই করাতে হবে এরকম কিছু না বলে বলা হয়েছিল যে যাত্রীদের সাথে মেডিক্যাল সনদ থাকতে হবে, যেখানে তাদেরকে “কোভিড ১৯ নেগেটিভ” হিসাবে উল্লেখ করা থাকবে৷ বলাবাহুল্য, কোন প্রকার কোভিড পরীক্ষা না করিয়ে এরকম সনদ পাওয়া সম্ভব নয়।

ঢাকায় পৌছানো যাত্রীদের হাতে থাকা সনদ পর্যালোচনা করে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেখেন যে কোভিডের লক্ষণ আছে কিনা শুধু তা দেখেই সনদ ইস্যু করা হয়েছে। কোভিড সনাক্তকরণের কোন প্রকার পরীক্ষা করা হয়নি। বাংলাদেশের দেওয়া শর্ত মানলে এ যাত্রীদের মালেতে বোর্ডিং করানোর কথা নয়। অবশ্য ২০০ যাত্রীর মধ্যে ৮২ জন যাত্রীর সাথে বিএমইটি কার্ড থাকায় বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিভিল এভিয়েশনের নীতিমালা অনুযায়ী তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার সুযোগ দেন৷ অবশিষ্ট ১১৮ জন যাত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণের বিকল্প ছিল না।

মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিগণ স্বীকার করেন যে তাদের প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট পরিচালনায় বাংলাদেশের বেধে দেওয়া শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। যার কারণে ১১৮ জন যাত্রী বাড়ি না গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে বাধ্য হলেন৷ ১১৮ জন যাত্রীর ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য মালদিভিয়ান এয়াইলাইন্সকে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে পরিচালিত ফ্লাইট ছিল বিধায় জরিমানার অঙ্ক ছিল কম। কিন্তু সাধারণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট নীতিমালা না মেনে পিসিআর পরীক্ষার সনদ ছাড়াই বাংলাদেশে যাত্রী নিয়ে আসলে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে। আশা করা যায় যে অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলি মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *