মে ১৬, ২০২১
দৈনিক আলোর কন্ঠ » ব্লগ » চার ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে অবিশ্বাস্য জয় ব্যাঙ্গালুরুর

চার ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে অবিশ্বাস্য জয় ব্যাঙ্গালুরুর

পরপর দুইদিন চরম উত্তেজনাপূর্ণ দুই ম্যাচ উপহার দিলো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। মঙ্গলবার মাত্র ১৫২ রানের সংগ্রহ নিয়ে ১০ রানে ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মুম্বাইয়ের চেয়েও ৩ রান কম করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

চেন্নাইয়ের চিদম্বরম স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১৪৯ রানের বেশি করতে পারেনি বিরাট কোহলির দল। আইপিএলে প্রায় পাঁচ বছর পর ফিফটি করে দলকে এ সংগ্রহ এনে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। জবাবে ভয়াবহ ভরাডুবির নজির গড়ে হায়দরাবাদ। শেষ চার ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি হেরেছে ৬ রানের ব্যবধানে।

নিজেদের আইপিএল ইতিহাসে এর আগে ১৫০ রানের কম করে ব্যাঙ্গালুরু ম্যাচ জিতেছিল প্রায় এক যুগ আগে। ২০০৯ সালের আসরে কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১৪৫ রান করে জিতেছিল তারা। প্রায় ১২ বছর পর এবার হায়দরাবাদের বিপক্ষে এত কম রান করেও জয়ী দল হিসেবে মাঠ ছাড়ল ব্যাঙ্গালুরু।

হায়দরাবাদের ইনিংসের ১৬তম ওভারে দ্বিতীয় স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউটের বিরতি দেয়া হয়। তখন ম্যাচ জিততে ২৪ বলে ৩৫ রান প্রয়োজন ছিল হায়দরাবাদের। হাতে ৮টি উইকেট থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতেই। তবু বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দুই ব্যাটসম্যান মানিশ পান্ডে ও জনি বেয়ারস্টোকে পরামর্শ দিতে মাঠে ছুটে আসেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

কিন্তু অধিনায়কের পরামর্শ যেন কানেই তোলেননি বেয়ারস্টো ও মানিশ। বিরতির পর করা ১৭তম ওভারের প্রথম দুই বলেই সাজঘরে ফিরে যান এ দুই সেট ব্যাটসম্যান। আর সেখান থেকেই শুরু হায়দরাবাদের পতনের। যা ধীরে ধীরে রুপ নেয় মহাবিপর্যয়ে এবং চার ওভারের মধ্যে ৭ উইকেট তুলে অবিশ্বাস্য এক জয় নিজেদের করে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

অথচ রান তাড়ায় শুরুটা দুর্দান্ত ছিল হায়দরাবাদের। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা (৭ বলে ১) হতাশ করলেও, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে সঠিক পথেই রেখেছিলেন ওয়ার্নার ও মানিশ। দুজনের জুটিতে মাত্র ১১ ওভারেই আসে ৮৩ রান।

ইনিংসের ১৪তম ওভারে দলীয় ৯৬ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন ওয়ার্নার। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। তখন জয়ের জন্য বাকি ছিল ৪০ বলে ৫৪ রান। লাইনআপে মানিশ, বেয়ারস্টো, সামাদ, হোল্ডারদের মতো ব্যাটসম্যানরা থাকায় তেমন চিন্তার কারণ ছিল না হায়দরাবাদের।

কিন্তু টাইমআউট বিরতির পর শাহবাজ আহমেদের করা ১৭তম ওভারটিই ঘুরিয়ে দেয় সব সমীকরণ। সেই ওভারের প্রথম বলে আউট হন ১৩ বলে ১২ রান করা বেয়ারস্টো, পরের বলে প্যাভিলিয়নের ফেরেন ৩৯ বলে ৩৮ রানের ওয়ানডে ইনিংস খেলা মানিশ। একই ওভারের শেষ বলে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান আব্দুল সামাদ।

শাহবাজ সেই ওভারে খরচ করেন মাত্র ১ রান, নেন তিনটি মহামূল্যবান উইকেট। যার ফলে ৮ উইকেটে হাতে রেখে ২৪ বলে ৩৫ রানের সমীকরণটি হয়ে যায়, ৫ উইকেটে ১৮ বলে ৩৪ রান। যেকোনো উইকেটে, যেকোনো দিনই এটি কঠিন সমীকরণ। তা আরও কঠিন হয় বিজয় শংকর, হোল্ডারদের ব্যর্থতায়।

এক ওভারে তিন উইকেট নিলেও শাহবাজকে আর বোলিং করাননি কোহলি। শেষ তিন ওভারে তিনি আস্থা রাখেন আগের ম্যাচের নায়ক হার্শাল প্যাটেল ও আত্মবিশ্বাসী মোহাম্মদ সিরাজের ওপর। ইনিংসের ১৮তম ওভারে বিজয়ের উইকেট নেয়ার পাশাপাশি মাত্র ৭ রান খরচ করেন হার্শাল।

পরের ওভারে প্রতি আক্রমণের বার্তা দেন রশিদ খান। সিরাজের করা সেই ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ওভারের বাকি বলগুলোতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান সিরাজ। পরের পাঁচ বলে মাত্র ৫ রানই নিতে পারে হায়দরাবাদ, হারায় হোল্ডারের উইকেট।

ফলে শেষ ওভারে বাকি থাকে ১৬ রান। হার্শালের করা সেই ওভারের প্রথম দুই বলে আসে ৩ রান। তৃতীয় বলটি ছিল কোমর উচ্চতার নো বল, যেটিতে বাউন্ডারি হাঁকান রশিদ। ফলে সমীকরণ নেমে আসে ৪ বলে ৮ রানে এবং ফ্রি হিট পায় হায়দরাবাদ। তবে ফ্রি হিট কাজে লাগাতে পারেননি রশিদ।

উল্টো পরের বলে দুই রান নিতে নিয়ে রানআউট হয়ে যান এ আফগান লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার। শুধু তাই নয়, সেই বলে প্রথম রানটিও সম্পন্ন করেননি তিনি। ফলে ঐ বলে কোনো রান পায়নি হায়দরাবাদ। আউট হওয়ার আগে ৯ বলে ১৭ রান করেন রশিদ।

jagonews24

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ওভারে ৩ উইকেট নেয়া শাহবাজ আহমেদ

ওভারের পঞ্চম বলে শাহবাজ নাদিমকে আউট করেন হার্শাল। শেষ বলে ১ রান নিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান ৬ রানে নামান ভুবনেশ্বর কুমার। এ জয়ের ফলে এখন টানা দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে ব্যাঙ্গালুরু। নিজেদের আইপিএল ইতিহাসে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম দুই ম্যাচেই জয়ের মুখ দেখল তারা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটি খুব বেশি আগাতে পারেনি ব্যাঙ্গালুরুর। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হয়ে যান দেবদুত পাড্ডিকাল। এরপর শাহবাজ আহমেদ আউট হন ১০ বলে ১৪ রান করে।

২৯ বল খেলে ৩৩ রান করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি ব্যাট করতে নেমছিলেন ওপেনিংয়ে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৪১ বলে খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি।

পরের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেনি। এবি ডি ভিলিয়ার্স ১, ওয়াশিংটন সুন্দর ৮, ড্যান ক্রিশ্চিয়ান ১, কাইল জেমিসন করেন ১২ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান করে র‌য়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: