ব্রীজের পাশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যবস্থায় নেই উদ্যোগ

আলোরকন্ঠ ডেস্কঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ব্রীজের মাত্র ৫০ ফিট দুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। আর সেই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে নির্মাণাধীন ব্রীজে। এতে করে হুমকির মুখে পড়ছে নির্মাণাধীন ব্রীজ ও পার্শ্ববর্তী স্কুল, কলেজসহ এবং বড় বড় পাকা স্থাপনা।
বেশকিছু দিন ধরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদীর উপর এমন চিত্র দেখা গেছে। অথচ নির্মাণাধীন ব্রীজের নির্মাণ কাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধির তা যেন চোখেই পড়ছে না।
এছাড়া গত ১ বছর ধরে তীরনই নদী থেকে অবৈধ ভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে উত্তোলন করা বালু করছে এক শ্রেনীর স্বার্থনেশী মহল। স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনককে বার বার বিষয়টি মৌখিক ও লিখিত ভাবে অবগত করার পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
গেল এক সপ্তাহ আগে উচ্চ আদালতের একটি রায়ে বলা হয়েছে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারলে চাকরি ছাড়তে বলেছে দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের।
তবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বদলী হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত বছরের মাঝামাঝিতে দুটো ড্রেজার মেশিন জব্দ করে থানা দিলেও অজ্ঞাত কারণে সেই মেশিনগুলো পুনরায় তীরনই নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা প্রকৌশল সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বালিয়াডাঙ্গী জিসি ভায়া বাদামবাড়ী হাট বাজার তীরনই নদীর উপর মিটার ৭০ মিটার গার্ডার ব্রীজের নির্মাণ করা হচ্ছে। আর সেই নির্মাণ কাজের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে ব্রীজের ৫০ ফিট দুর থেকেই।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি প্রশাসনের লোকজনের অনুমতি নিয়েই নদী থেকে বালু উত্তোলন করছি। তা না হলে প্রশাসন অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন।
তীরনই নদীর আশপাশ এলাকার জামাল উদ্দিন, ফজলুর রহমান, বেলাল হোসেনসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তীরনই নদী থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে কোন ধরণের অভিযান না থাকার কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু ব্যবসায়ীরা। আে এভাবে চলতে থাকলে নদীর আশপাশে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পরবে। আমরা চাই এ বিষয়ে প্রশাসন ঘুমিয়ে না থেকে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে শ্রীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ব্রীজের পার্শ্বে বালু উত্তোলন। এটি নির্মাণাধীন ব্রীজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।