সংগ্রাম, উন্নয়ন ও অর্জনে গৌরবদীপ্ত পথচলার ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ।


আজ ২৩ জুন।
এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় লক্ষ লক্ষ দেশ প্রেমিক, মানব প্রেমিক নেতার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে চাই।
দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগের পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। শুরুতে এই দলটির নাম ছিল পূর্ব বাংলা আওয়ামী মুসলিম লীগ।ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেন রোডের ‘রোজ গার্ডেন ‘ প্যালেসে সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং কারাগারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুজিবকে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট এক‌টি কমিটি করে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়।
১৯৫৫ সালে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুসলিমলীগ শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ নামকরণ হয়। সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি রক্ষার উদ্যেশ্যে আজন্ম অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত শেখ মুজিবের ভাবনা ছিল। (যা আমরা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ‘১ম সম্মেলন ‘ লেখা তাঁর আত্মজীবনীতে পাই।)১৯৪৯ সাল থেকে বিশটি সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করেছেন আওয়ামীলীগ। এবং এযাবত কালের সর্বাধিক সময় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামীলীগ সবসময় সোচ্চার ছিল পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে।আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব দেয় আঞ্চলিক সায়ত্ব শাসনসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে।
৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ আন্দোলন, ৬৯’এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস সময় ধরে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে।অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে ত্রিশ লক্ষ শহীদ দুই লক্ষেরও বেশি মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি, একটি স্বাধীন ভূখন্ড পেয়েছি।
১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। তারপর চলে তাঁর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজ। বাঙালির অধিকার আদায়ে যে মানুষটি জীবনের প্রায় চৌদ্দটি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, তাঁকে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী ও আন্তর্জাতিক চক্রের সহযোগিতায় দেশিয় একদল উশৃঙ্খল সেনা সদস্য।
ইতিহাসের ভয়াবহ দুঃসময় আওয়ামীলীগের জেল খানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।কিন্তু আওয়ামীলীগ ফিনিক্স পাখির জাত হাজার বার ধংস করলেও হাজার বার জন্ম নেবে।ভেতরে ভেতরে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ কর্মীরা বুকে চরম ব্যথা নিয়ে সুসংগঠিত হতে থাকে।ওরা নেতৃত্ব শুণ্য করেছিল কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বেঁচে যান বিদেশে থাকার কারণে।
আজীবন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে সোচ্চার এই দলটি নিষ্পেষিত হয়েছে। দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন বিদেশে থাকাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে শেখ হাসিনা। জীবনের ঝুকি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পরিচালিত করেন এখনো পর্যন্ত।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন শুরু হয় নতুন করে।কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা চক্রের দোসররা বসে নেই দেশরত্নকে প্রায় ২১ বার হত্যা চেষ্টা করে।যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কৃপায় বার বার বেঁচে যান এদেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের জন্য।
দীর্ঘ ২১বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসেন।আবার দেশিয় আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ পরাজয় বরণ করলে শুরু হয় বিএনপি জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারের আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের দমন পীড়ন হত্যাযজ্ঞ।
২০০৪ সালে ২১ শে আগস্ট আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার উদ্যেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়।এইদিন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আওয়ামীলীগ ত্যাগী নেত্রী আইভী রহমান সহ ২৪জন নেতা কর্মী নিহত হন এবং অসংখ্য নেতা কর্মী পঙ্গু ও এখনও শরীরে স্পিলিন্ডার বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন।
২০০৭ সালে অবৈধ ক্ষমতা অপব্যবহারকারী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিনা অপরাধে গ্রেফতার করেন শেখ হাসিনাকে।২০০৮ সালে ১০ মে মুক্তি পান জননেত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামীলীগ।
পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উন্নয়নে, অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।দেশ আজ সকল প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ।
সোহরাওয়ার্দী, ভাষানীর হাত ধরে শুরু হওয়া দলটি পূর্ণতা পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে ।প্রতিটি নেতা কর্মী শিখে নেয় দেশ, মাটি ও মানুষকে ভালবাসার মূলমন্ত্র।শিখে নেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশের যত অর্জন, আন্দোলন, সংগ্রামের ইতিহাসে পরতে পরতে জড়িয়ে আছে দলটির নাম।তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যন্ত অসংখ্য মুজিব আদর্শে ত্যাগী, নির্লোভ, নিষ্ঠাবান নেতাদের নেতৃত্বে চলছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি এমন দল যার ইতিহাস, ঐতিহ্যে, সংগ্রাম, সাফল্যে পরিপূর্ণ একটি সংগঠন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফল হোক।এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা গাছ লাগিয়ে পৃথিবীকে সবুজে সবুজে ভরিয়ে দেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। সরকারি নিয়ম মেনে চলি।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
আল্লাহ্ সহায় হন
২৩ জুন ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: