৫০ তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা সজীব ওয়াজেদ জয়,



এম. নজরুল ইসলাম

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার সঙ্গে আজও প্রাসঙ্গিক। মানুষের ধর্ম নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও তার সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস। জন্তুদের বাস ভূমণ্ডলে, মানুষের বাস সেইখানে যাকে সে বলে তার দেশ। দেশ কেবল ভৌমিক নয়, দেশ মানসিক। মানুষে মানুষে মিলিয়ে এই দেশ জ্ঞানে জ্ঞানে, কর্মে কর্মে। যুগযুগান্তরের প্রবাহিত চিন্তাধারায় প্রীতিধারায় দেশের মন ফলে শস্যে সমৃদ্ধ। বহু লোকের আত্মত্যাগে দেশের গৌরব সমুজ্জ্বল। যে-সব দেশবাসী অতীতকালের তাঁরা বস্তুত বাস করতেন ভবিষ্যতে। তাঁদের ইচ্ছার গতি কর্মের গতি ছিল আগামীকালের অভিমুখে। তাঁদের তপস্যার ভবিষ্যৎ আজ বর্তমান হয়েছে আমাদের মধ্যে, কিন্তু আবদ্ধ হয়নি। আবার আমরাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করছি। সেই ভবিষ্যৎকে ব্যক্তিগতরূপে আমরা ভোগ করব না।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক বলা হচ্ছে এই কারণে যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও পারিবারিক স্বার্থের চুলচেরা হিসাব-নিকাশ যেমন দেখতে পাওয়া যায়, তেমনি দেখছি, একটি পরিবার সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল দেশের স্বার্থকেই বড় করে দেখে দেশ সেবার মহান ব্রত সাধনায় নিয়োজিত। দেশের মানুষের মুক্তির মহান ব্রত নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে উন্নয়নের রোল মডেল। এমনকি এই কোভিড মহামারিকালেও তিনি প্রমাণ করেছেন, কেবলমাত্র আন্তরিকতা দিয়েই যেকোনো দুর্যোগ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করা যায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে শুরু থেকেই তিনি যে পারদর্শিতার পরচয় দিয়েছেন, তা উদাহরণযোগ্য। পৃথিবীর অনেক বলশালী দেশ যেখানে করোনার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে, সেখানে বিরল নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ, কেবলই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বগুণে। আর সেকারণেই এত বছর পরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক কথাই যেন আজকের বাংলাদেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। মানুষের ধর্ম প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরো লিখেছেন, ‘ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষের আত্মোপলব্ধি বাহির থেকে অন্তরের দিকে আপনিই গিয়েছে, যে অন্তরের দিকে তার বিশ্বজনীনতা, যেখানে বস্তুর বেড়া পেরিয়ে সে পৌঁছেছে বিশ্বমানসলোকে। যে লোকে তার বাণী, তার শ্রী, তার মুক্তি। সফলতালাভের জন্যে সে মন্ত্রতন্ত্র ক্রিয়াকর্ম নিয়ে বাহ্য পরীক্ষায় প্রবৃত্ত হয়েছিল; অবশেষে সার্থকতালাভের জন্যে একদিন সে বললে, তপস্যা বাহ্যানুষ্ঠানে নয়, সত্যই তপস্যা; … যে মানুষ আপনার আত্মার মধ্যে অন্যের আত্মাকে ও অন্যের আত্মার মধ্যে আপনার আত্মাকে জানে সেই জানে সত্যকে।’ অর্থাৎ সত্যেও কোনো বিকল্প নেই। সত্যকে আশ্রয় করেই মানুষকে চলতে হয়। সত্যকে এড়িয়ে অসত্যকে আশ্রয় করে যাদের পথচলা, তাদের যাত্রাপথে একদিন বিরতি পড়বেই। কিন্তু লক্ষ্য যার স্থির, অন্তরে যার দেশমাতৃকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্রত, তিনি যেকোনো বাধাকেই তুচ্ছ জ্ঞান করে এগিয়ে যেতে পারেন। যেমন সব বাধা তুচ্ছ জ্ঞান করে এগিয়ে গিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যেমন ‘পায়ে পায়ে পাথর’ সরিয়ে, ‘সকল কাঁটা ধন্য করে’ এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
ইসক্রা থেকে যেমন জ্বলে ওঠে মশাল, তেমনি আজকের দিনের তারুণ্যই আগামী দিনের নেতৃত্বের পথটি দেখিয়ে দিতে পারে। সজীব ওয়াজেদ জয় তো তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তো তাঁরই স্বপ্ন। ফোর জি ছাড়িয়ে দেশ যে ফাইভ জি-তে পা রাখতে যাচ্ছে, তার রূপকার তো তিনিই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দেশকে এই খাতে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন তাঁর। দেশের বর্তমান তারুণ্যের রোল মডেল তিনি। আবার, রাজনীতির উত্তরাধিকার সূত্রেই এখন রাজনীতির মঞ্চেও তিনি। এ নিয়ে নিন্দুকদের সমালোচনারও অন্ত নেই। যদিও ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার টেনে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের রাজনীতির পারিবারিক ধারায় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী তাঁর পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা বেনজীর ভুট্টো, বেনজীরের স্বামী ও ছেলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সবাই জ্ঞাত। শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ও লক্ষণীয়। ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে সুকর্নো পরিবারের অবদানও তো কম নয়। ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকেই রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন। তারই ধারবাহিকতায় যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিষেক। বিভিন্ন সভাসমাবেশে তাঁর প্রাণময় উপস্থিতি যে কর্মীদের উজ্জীবীত করে, প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে তরুণদের মধ্যে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যেকোনো অনুষ্ঠানেই তিনি সপ্রতিভ, হার্দিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মা শেখ হাসিনার মতো হৃদ্যতায় সাধারণ মানুষকে কাছে টানার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তিনি দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সহজেই।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে জয় রাজনীতিতে আসবেন, এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগদান এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। একটু অতীতের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা দেখব সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে কিছু কিছু প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য পদও গ্রহণ করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য হয়ে উঠবেন, এটা যেন তাঁর বিধিলিপি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। স্বাভাবিকভাবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য উত্তরসূরি যে সজীব ওয়াজেদ জয়, তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ তো নেই। সঙ্গত কারণেই তৃতীয় প্রজন্মের এই নেতৃত্বের প্রতি কেন্দ্রীভূত দেশের সিংহভাগ মানুষের দৃষ্টিও। আগ্রহ-আকর্ষণের কেন্দ্রেও তিনি। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায়। উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ যে ভবিষ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: