অগাস্ট ১, ২০২১
দৈনিক আলোর কন্ঠ » ব্লগ » উইসকনসিনেও জয়, বাইডেনের ইলেকটোরাল ভোট ২৪৮

উইসকনসিনেও জয়, বাইডেনের ইলেকটোরাল ভোট ২৪৮

Vice President Joe Biden gestures while speaking at the 2014 UAW National Community Action Program Conference in Washington, Wednesday, Feb. 5, 2014. (AP Photo/Cliff Owen)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঠাকুরগাঁও টাইমস :

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিজয়ী হয়ে আরও ১০টি ইলেকটোরাল ভোট পকেটে পুড়লেন তিনি। এ নিয়ে তার ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ২৪৮। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এপি।

দীর্ঘদিন ধরে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকলেও ২০১৬ সালে হেরে গিয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। চার বছর পর এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে রাজ্যটিকে আবার উদ্ধার করলেন বাইডেন।

তবে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে বাইডেনের আরও ২২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট প্রয়োজন। মিশিগান ও নেভাদায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন বাইডেন। এই দুই রাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যাও ২২। তবে নেভাদায় এখনও এক তৃতীয়াংশ ভোট গণনা করা হয়নি। অপরদিকে মিশিগানে ভোট গণনা প্রায় শেষ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নির্বাচন পদ্ধতি অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন এবং কিছুটা জটিল। কোনো একজন প্রার্থী নাগরিকদের সরাসরি ভোট পেলেই যে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন – তা নয়। বরং ইলেকটোরাল কলেজ নামে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশেষ নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে – আসলে তার মাধ্যমেই ঠিক হয় কে হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

মূলত রাজ্যগুলোতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভাগ্য গড়ে দেয় ভোটাররা। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা, ওহাইও এবং টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্য জেতায় তার ইলেকটোরাল ভোট হয়েছে ২১৪টি। কিন্তু আরও চার বছর প্রেসিডেন্ট থাকতে হলে তাকে জিততে হবে আরও কিছু রাজ্য। তবে উইসকনসিনে জয় পেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দিলেন বাইডেন।

এখনো ৬টি অঙ্গরাজ্যে ৭৩টি ইলেকটোরাল ভোটের ওপর ঝুলে আছে নির্বাচনের ভাগ্য: সেগুলো হলো- নেভাদা (৬ ভোট), মিশিগান (১৬ ভোট), জর্জিয়া (১৬ভোট), পেনসেলভেনিয়া (২০ভোট), নর্থ ক্যারোলিনা (১৫ভোট),ও আলাস্কা (৩ ভোট)।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এপির দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নেভাদায় এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। বাইডেন এখানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাইডেন পেয়েছেন ৪৯.২ শতাংশ ভোট। আর ট্রাম্প ৪৮.৬ শতাংশ।

মিশিগান- হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত বেশ কিছু এলাকার ব্যালট গণনা বাকি আছে। মিশিগানে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এখানে ৪৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বাইডেন। আর ট্রাম্পের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৮.৯ শতাংশ।

নেভাদা আর মিশিগানে জয় পেলেই বাইডেনের ২২ ইলেকটোরাল ভোট হয়ে যাবে। এর মধ্যে মিশিগানে স্পষ্টতই এগিয়ে বাইডেন। ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা কম।

এছাড়া জর্জিয়া, পেনসেলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও আলাস্কায় এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে বাইডেনও খুব পিছিয়ে নেই।

জর্জিয়া- একটি রিপাবলিকান রাজ্য যেখানে এবার তুমুল লড়াই হচ্ছে। ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এখানে ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। তারে ট্রাম্প ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর বাইডেন ৪৮.৬ শতাংশ।

পেনসিলভানিয়া- বিশটি ইলেক্টোরাল ভোট এখানে। বড় ব্যাটলগ্রাউন্ড। ট্রাম্প এ মুহূর্তে এগিয়ে আছেন। কিন্তু পোস্টাল ভোট পড়েছে এখানে বিপুল সংখ্যায় যেগুলোর গণনা এখনো শুরু হয়নি। রিপাবলিকানদের আইনি লড়াই শুরু হতে পারে এখান থেকেই। রাজ্যটিতে ৮৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। ট্রাম্প পেয়েছেন ৫২.৭ ও বাইডেন ৪৬.২ শতাংশ ভোট।

নর্থ ক্যারোলিনা– ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা হওয়া এ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প পেয়েছেন ৫০.১ শতাংশ ভোট। আর বাইডেন ৪৮.৭।

এদিকে আলাস্কায় বিশাল ব্যবধানে জয়ের পথে ট্রাম্প। ৩টি ইলেকটোরাল ভোট থাকা এ রাজ্যে ট্রাম্প পেয়েছেন ৬৩.৬ শতাংশ ভোট। আর বাইডেন ৩২.৪ শতাংশ। এ অঙ্গরাজ্যে ৫০ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে।

এত হিসাবের পরও জটিলতা রয়ে গেছে। কারণ দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোতে গণনার বাকি ভোটগুলো বাইডেনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

মঙ্গলবার ফল প্রকাশের শুরুতে ট্রাম্প বেশ এগিয়ে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমে উত্তাপ বাড়ছে।

এদিকে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই নিজের জয় দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট গণনার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন তার সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প বা আমি নিজেকে জয়ী ঘোষণার কেউ নই। এটা আমেরিকার জনগণের সিদ্ধান্ত।

আর মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্পের তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: