মে ১৩, ২০২১
দৈনিক আলোর কন্ঠ » ব্লগ » ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচন: ইভিএমে কৌতূহলী ভোটার সংশয়ে প্রার্থীরা

ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচন: ইভিএমে কৌতূহলী ভোটার সংশয়ে প্রার্থীরা

জমে উঠেছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন। চায়ের দোকানে চুমুকে চুমুকে এখন চলছে শুধু নির্বাচনী আলাপ। এ জেলায় প্রতিটি নির্বাচনের আগেই এক ভিন্ন রকম উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনী আমেজ ও কৌতূহল কাজ করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। তবে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী আলোচনা ছাপিয়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে ইভিএম।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন। এ এলাকায় এবার নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এ পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী। তীব্র শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা, তবে বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীকে বেশি দেখা যাচ্ছে মাঠে।

এ ছাড়াও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৫৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও নয়জন সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে এবার কাগজের ব্যালটের বদলে ব্যবহার হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাধারণ ভোটাররা এর আগে ইভিএমে ভোট না দেয়ায় তাদের মাঝে বেশ কৌতূহল ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই নির্বাচনের নতুন এ পদ্ধতিকে স্বাগত জানালেও অনেক প্রার্থীর মাঝে কাজ করছে সংশয়।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রবীণ ভোটার আমজাদ বলেন, ‘আমি অনেকবারই ভোট দিয়েছি। তবে এবার কিছুটা ভিন্ন নিয়মে ভোট হবে। তাই এটা নিয়ে সকলের মাঝে বেশ আগ্রহ দেখছি। আমি বেশ উৎসাহী।’

তরুণ ভোটার আকাশ আহমেদ বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দেবার সুযোগ পাওয়ায় আমি বেশ কৌতূহলী। ইভিএমের বিষয়ে জেনেছি। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এ পদ্ধতিকে স্বাগত জানাই।’

ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুল জানান, প্রথমবার ইভিএমে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোট প্রদানে অনেকে ভুল করতে পারে। অনেকে ভয় পাচ্ছে। তাই নিজ উদ্যোগে সকলকে এ বিষয়ে অভয় দিয়ে পদ্ধতি শিখতে সহযোগীতা করছি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ‘নির্যাতিত বিএনপির কর্মীরা আমাকে জয়ী করার জন্য কাজ করছে। ইভিএমের বিষয়ে বরাবরই আমাদের দলের আপত্তি ছিল। তবে নিয়ম রক্ষার্থে ও জনগণের সঙ্গে থাকতেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। যদি সঠিক নির্বাচন হয় তবে বিপুল ভোটে জয় লাভ করবো।’

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনজুমান আরা বন্যা বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীকে দেখলে পৌরসভার ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কারণে বিএনপি কর্মীরা নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোনো ভুল হবার সুযোগ নেই। তাই পৌরবাসীকে নির্ভয়ে ইভিএমের মাধ্যমে তাদের মূল্যবান ভোট দিতে আহ্বান করছি।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং অফিসার জিলহাজ উদ্দিন বলেন, এ পৌরসভায় এবার প্রথমবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। অনেকেই জানেন না কীভাবে ভোট নিতে হবে আর কীভাবে দিতে হবে। তাই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনের সময়ে দায়ীত্বে থাকবে এমন সবাইকে ০৮ ও ০৯ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ভোটের আগের দিন মগ ভোটের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের ইভিএম পদ্ধতি শেখানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: