মে ১৫, ২০২১
দৈনিক আলোর কন্ঠ » ব্লগ » বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের চিনিকলগুলোর লোকসানের কারনঃ

বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণঃ বাংলাদেশের চিনিকলগুলোর লোকসানের কারনঃ

লেখক: মোজাহার আলী।

চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্হার অধীন বাংলাদেশের চিনিকলগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত। ব্যবস্হাপনার চরম অবহেলার কারনে এবং সরকারের নমনীয় নীতির কারনে চিনিকলগুলো লোকসান গুনছে। কি কারনে চিনিকলগুলোর আজ এ অবস্থা তা নিম্নে পর্যালোচনা করা হলো।

১/ কৃষকদের ঠিকমতো পুরজি(কুশার বিক্রয়ের অনুমতিপত্র) না দেয়াায় কুশার শুকিয়ে যেত ওজন কমে যেত। ফলে কৃষক বিকল্প ফসল ভূট্টা চাষ করছে। কারও কাছে ধরনা দিতে হয়না। ফলে কুশার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এখনো দেখা যায় কৃষকরা পুরজি না পেয়ে কুশারক্ষেতে আগুন দেয়।

২/ কুশার বিক্রয় করে নির্দিষ্ট দিন ছাড়া কুশারের টাকা পাওয়া যায়না। ফলে কৃষকদের নির্দিষ্ট দিনে সেন্টারে গিয়ে লাইন ধরে টাকা নিতে হয়। এটাও একটা বদারেশন।

৩/ কৃষকদের প্রনোদনা প্রদান করা হয়না।

৪/ সার ও বীজ ঠিকমতো পাওয়া যায়না।

৫/ গুড়ও মাড়াই করতে দেয়া হয়না বিধায় কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্হা না থাকায় কৃষকরা আখ উৎপাদন/ চাষ বন্ধ করে দিয়েছে।

৬/ সিডিও/ ফিল্ডম্যানদের অামলাতান্ত্রিক মনোভাব। কৃষক বান্ধব প্রশাসন গড়ে উঠেনি। ৭/ কৃষকদের কুশারের মাপ যোগ ঠিকমত দেয়া হয় না। কাটায় অনেক গরমিল থাকে।

৮/ কৃষকদের মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব, আখচাষে উৎসাহ প্রদানে ভাটা।

৯/ সুগারমিল খুলতে দেরি করা।

১০/ মাথাভাড়ি জনবল। অকেজো জনবল ছাটাই না করা।

১১/ কৃষকদের যথাসময়ে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান না করা।

১২/ মাঠপর্যায়ে সিডিওরা অবস্থান না করা। ভবনসমুহ মেরামত না করায় নষ্ট হয়ে যাওয়া।

১৩/ বিকল্প চিনিকল এসিআই/ এস আলম/ ফ্রেশ/ তীর প্রভৃতি বাজার দখল করা।

১৪/ এসকল কারনে চিনির সঠিক দাম না পাওয়া।

মন্তব্যঃ আরও ছোটখাটো অনেক কারনে বাংলাদেশের চিনিশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। এখানেও পাটকলগুলোর মত অবস্হায় রপান্তরিত হচ্ছে। তাই এখনি আমাদেরকে এ শিল্প বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে। এব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তবে এর আগে ম্যানেজমেন্টে থাকা কর্মকর্তাদের বিদায় করে দিতে হবে। আমুল পরবর্তন আনতে হবে। যারা সৎ ও ন্যায় পরায়ন তাদের পোস্টিং দিতে হবে। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে জমাকৃত চিনি বিক্রয় করার ব্যবস্হা করতে হবে। প্রতিটি সরকারী প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারী চিনিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিজিবি, পুলিশ, আর্মী, আনসার সকলকে সরকারী চিনি সরবরাহ করতে হবে। ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড় চিনিকল ওভারহলিং করে নতুন যন্ত্রপাাতি মেশিন স্হাপন করতে হবে। প্রতিটি সেন্টারে সেন্টারে ভবনগুলো মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করে হবে। ভাতার ডাংগী ও ধর্মগড় এর মত কৃষি ফার্মগুলোতে উন্নতমানের কুশারের জাত লাগাতে হবে। আবাদ ভালো হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত গোবর সারের সাথে কৃত্তিম সারও প্রদান করতে হবে। সেখানে কুশার চুরি প্রতিরোধ করতে হবে। পাহাদার রাখতে হবে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের তথায় অবস্হান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিল্প ও অর্থ মন্ত্রনালয় পর্যাপ্ত ফান্ড সরবরাহ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: